Text size A A A
Color C C C C

গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ

  • সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
  • প্রতিষ্ঠাকাল
  • ইতিহাস
  • প্রধান শিক্ষক/ অধ্যক্ষ
  • অন্যান্য শিক্ষকদের তালিকা
  • ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা (শ্রেণীভিত্তিক)
  • পাশের হার
  • বর্তমান পরিচালনা কমিটির তথ্য
  • বিগত ৫ বছরের সমাপনী/পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল
  • শিক্ষাবৃত্ত তথ্যসমুহ
  • অর্জন
  • ভবিষৎ পরিকল্পনা
  • ফটোগ্যালারী
  • যোগাযোগ
  • মেধাবী ছাত্রবৃন্দ

ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা সদরে অবস্থিত। এটা একটি প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।  ৩.৬৬ শতক জমির উপর বিদ্যালয়টি অবস্থিত। খেলার মাঠ, পুকুর, ফুল বাগান ও গাছে গাছে ভরা আছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি চারটি দ্বিতল ভবন, ১টি একতলা ভবন, দুটি টিনশেড ভবন বিশিষ্ট মডেল হাই স্কুল। প্রতিষ্ঠানটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব সহ মোট ৩৫ কক্ষ বিশিষ্ট।  জে.এস.সি, এস.এস.সি, এস.এস.সি, (ভোক) ও এইচ.এস.সি (বি.এম) পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

 

 


১৯৪৫ খ্রিঃ

গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কিছু কথাঃ

মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন, সিনিয়র শিক্ষক(কম্পিউটার)৷

১৭৫৭ সালেপলাশীর আম্রকাননে বাংলা, বিহারউড়িষ্যার স্বাধীন নওয়াব সিরাজদৌলার নির্মম পরাজয়; এবং করুন পরিণতি  ওবিয়োগান্তে ঘটনার মধ্য দিয়ে পাক-ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতাসূর্য্য অস্তমিত হয়|

 সূদীর্ঘ দশো বছর ছলে বলে বৌশলে বিদেশী ভাবখারা, অপসংস্কৃতি, তথা সাম্রজ্যবাদ নতুন অবয়নে প্রতিষ্ঠিত হয়ে কোটি কোটি জনতার আবহমান কালের লালিত ঐতিহ্য ও স্বপ্ন নির্মমভাবে পদদলিত করে। ঐতিহাসিক কারণেই উনবিংশ শতাব্দির মাঝামাঝি সময়ে, পাক ভারত উপমহাদেশে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন নতুন মোড় নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযইদ্ধেও শেষ পর্বে অনিবার্য্য কারণেই এই সর্বনাশা সাম্রজ্যবাদ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দেশের জাগ্রত জনতার স্বাধীনতা স্পহা তীব্রতর হয়ে উঠে। ’’জয়শহন্দ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, হুকুমতে বরতানিয়া বরবাদ হো ’’ শেস্নাগানে।যুগ পরস্পরায় ক্ষুদিরাম, তীতুমির, সৈয়দ আহমেদ, ব্রেলভী, হাজী শরীয়তুলস্নাহ, নেতাজী সভাষ বোস, মহাত্ন গান্ধী, কায়েদে আজম, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমূখ মনীষার, মেধা, প্রজ্ঞা, দরদর্শিতা, বিচক্ষণতা ও সুযোগ্য নেতৃত্ব মুক্তিপাগস্ন মানুয়ের বিপস্নব  ও মুক্তির কন্টাকাকীর্ণ পথকে সুগ্ম করে। ভৈরব, মাথাভাঙ্গা নদী বিধৌত তৎকালীন নদীয় জেলার জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকল সত্মরের মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, ক্ষুধা, দারিদ্র, বেকারত্ব ও সকল প্রকার আগ্রাসনের বিরম্নদ্ধে জনযুদ্ধেও প্রস্ত্ততি গ্রহন করে।

বাহাদুর আলি খাঁন চলিস্নশের দশকে গাংনী থানার ওসি ছিলেন। তাঁর আদি নিবাস নাটোর জেলার আলাইপুর গ্রাম। তিনি একজন সাহিত্যক,শিক্ষানুরাগী ও সংস্কৃতিমনা মানুষ ছিলেন। নাটোরের ঐতিহ্যবাহী উত্তরা গণভবণের বহু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, তিনি গুরম্নত্বর্পূণ ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর ছোট ভাই গাংনীানার ধর্মচাকী নিবাসী মরহুম মোজাফফর আলি খাঁন একজন প্রখ্যাত হোমিওপ্যা চিকিৎসক ছিলেন তিনিও স্কুল প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা প্রদান করেন। উক্ত আলোচনা সভায় নিম্নলিখিত শিক্ষাগুরাগী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেনঃ-

          ১। জনাব মোহাঃ বাহাদুর আলী খাঁন, ওসি, গাংনী, ২। শ্রী শচীন্দ্রনাথ-সেনেটারী ইন্সপেস্টর,গাংনী,৩। শ্রী তারাপদ বিশ্বাস-চেংগাড়া, ৪। জনাব হাফিজুদ্দিন বিশ্বাস-চৌগাছা,৫। জনাব মোঃ রিয়াজুদ্দিন বিশ্বাস-চৌগাছা, ৬। জনাব মোহাঃ আঃ জলিল মিয়া-জোড়পুকুরিয়া, ৮।জনাব মোহাঃ হচেন আলী বিশ্বাস-মালসাদহ, ৯। মোহাম্মদ আলি মন্ডল-গোপাল নগর, ১০। শ্রী মনোরঞ্জন বিশ্বাস-গাংনী, ১১। মোহাঃ আমিন বিশ্বাস-হিজলবাড়ীয়া, ১২। মোহাঃ আব্দুল বিশ্বাস-গাংনী, ১৩। মোহাঃ আব্দুল হামিদ মিয়া-গাংনী,১৪। মৌলভী আব্দুল হোসেন-চৌগাছা, ১৫। মোহাঃ আতর আলি মিয়া-ধানখোলা, ১৬।মোহাঃ মোহাঃ সবদেল মন্ডল-গাংনী, ১৭।ডাঃ ফজেল আলি-বানিয়াপুকুর।

সভাপতির আসন গ্রহন করেন শ্রী মনোরঞ্জন বিশ্বাস। উক্ত সভায় সবর্বসম্মতিক্রমে হাইস্কুল প্রতিষ্ঠার প্রসত্মাব গৃহিত হয় এবং বর্তমান গাংনী হাইস্কুলের আংগিনা স্কুল প্রতিষ্ঠার স্থান হিসাবে নির্ধারিত হয়।

সভাশেষে গাংনী বাজারের তৎকালীন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নের দোকানের মালিক শ্রী রামপদ বিশ্বাস তার দোকানের সন্দেস ও চিনির বাতাশা বিতরণ করেন চাতোরের বিলের পদ্মের পাতায় জড়িয়ে। সেই সময়কার রাসত্মাঘাট ছিল কাঁচা  এবং যানবাহনও ছিল সেকেলে। ঘোড়াই ছিল নামী-দামী সব মানুষের সৌখিন ও দ্রম্নততম বাহন। দূরাঞ্চলের সবাই ঘোড়ায় চড়ে সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন। সভা চলাকালে এক পর্য্যায়ে নামি ঘোড়ায় ঘোড়ায় যুদ্ধ হয়ে যায়। ভীতসন্ত্রসত্ম ঘোড়া সওয়ারেরা নিরাপদ আশ্রায়ের জন্য ব্যসত্ম হয়ে উঠেন। সৌভাগ্যের বিষয় গোপলনগরের সাহসী জওয়ান মোহাঃ আলিমুদ্দিন তার হাতের লঠি উচিয়ে সে যুদ্ধ মুহূর্তেও মধ্যে সত্মব্ধ করে দেয়।

উক্ত সভায় যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে স্কুল প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত কওে সবর্বসম্মতিক্রমে নিম্নরম্নপ কমিটি গঠিত হয় এবং কমিটির সদস্যগণ তাঁদের নামের পার্শ্বে লিখিত অংকের অর্থ প্রদান করেন।

জনাব মোহাঃ বাহাদুর আলী খাঁন-১০০/০০, শ্রী শচীন্দ্রনাথ বিশ্বাস-১০০/০০, শ্রী তারাপদ বিশ্বাস-১০০/০০, মোহাঃ ফাকেরালী বিশ্বাস-৫০০/০০, মোহাঃ রিয়াজউদ্দিন বিশ্বাস-১০০/০০,মোহাঃ হাফিজউদ্দিন আহমেদ-১০০/০০, মোহাঃ আতোর আলী মিয়া -১০০/০০ মোহাঃ এলাহী বিশ্বাস-১০০/০০, মোহাঃ আলিমুদ্দিন-১০০/০০, মোহাঃ আব্দুল হামিদ মিয়া-১০০/০০,মোহাঃ মোহাঃ হচেন আলী বিশ্বাস-১০০/০০,সবর্ব মোট=১৫০০/০০ মঃ এক হাজার পাঁচ শত টাকা মাত্র।

উক্ত সভায় আগত নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ স্বতহর্স্ফূভাবে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেন।

ক্রমিক নং

জমিদাতার নাম

মৌজা

খতিয়ান

দাগ নং

জমির পরিমাণ

১।

মোঃ কেরামত আলী বিশ্বাস

গাংনী

১২২

২০৪৬

০.২২ শতক

২।

মো করম আলী

গাংনী

৩৭৫

২০২১

০.০৮ শতক

৩।

শ্রী মনোরঞ্জন বিশ্বাস

গাংনী

৩৪৮

২০৫৩

০.৩৪ শতক

৪।

মোহাঃ আব্দুল হামিদ মিয়া

চৌগাছা

৮৮২

২১৬২

১.১৫ শতক

৫।

শ্রী কালীপদ বিশ্বাস

গাংনী

১১২

২০৪৭

০.১৫ শতক

                                                                                    মোট= ২.২০ শতক মাত্র

অর্থ ও জমি প্রাপ্তির পর পরই,স্কুল পরিচালনার জন্য নিম্নলিখিত শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মচারীদেরকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।

১। শ্রী ইন্দুভূষণ দত্ত,বি,এ,বি, টি-প্রধান শিক্ষক, শ্রী কাশীনাথ বসু- সহকারী শিক্ষক, শ্রী পরিমল কুমার বিশ্বাস,বি,এ-সহকারী শিক্ষক,মোহাঃ হাফিজুদ্দিন আহমেদ,ম্যাট্রিক-সহকারী শিক্ষক,মৌলভী জামালুদ্দিন,এফ,এম-মৌলভী, মোহাঃ মতলেব হোসেন,নন ম্যাট্রিক-কারণিক, শ্রী পঞ্চনন দাস-ঝাড়ুদার।

শিক্ষক নিয়োগ ও ছাত্র ভর্তিজনিত কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ের কলেরব বৃদ্ধি পায় এবং এম.ই স্কুলের আটচালা বেড়ার ঘরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় আরও দুটি ৫ চালা ইটের দেওয়াল বিশিষ্ট ঘর নির্মান করা হয়।

          বিদালয়ের চতুর্দিকে সমগ্র এলাকাটি ছিল ঘন জংগলে পরিপূর্ন্ ।আম,জাম,তাল,তামাল, বেত,বাঁশ, এমনি অসংখ্য গাছ গাছালির সমারোহ। কেয়া আর পুটুশ ফুলের থোকায় থোকায় মৌমাছি আর প্রজাপতির আনা গোনা সমৃদ্ধ ছিল সমগ্র এলাকাটি। বাঘ,শেয়াল,শুকর ,খরগোশ,ও বিষধর সরীসৃপ সকলেই শামিত্মপূর্ন সহাবস্থানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বসবাস করতো। নিশাবসানে রংবেরং এর পাখ পাখালির কল-কাকলিতে ঘুম  ভাংতো এলাকাবাসীর। ডালে ডালে ঝুলে থাকা নিশাচর বাদুড়, দিবাবসানের অপেক্ষায় প্রহর গুনতো। বনের ঠিক মধ্যভাগে ছিল একটি ছোট দীঘি যা বার মাসেই জলে পরিপূর্ণ  থাকত। সে জলের বাস করতো নানান জাতের মাছ আর সরীসৃপ। পানি সংলগ্ন ঝোপে বাস করতো অসংখ্য ডাহুক দম্পতি। রক্তকমলের ফোটা ও আধফোটা ফুলে সঞ্চিত নিশির শিশিরে উদীয়মান রবির কিরণে সৃষ্টি অপরূপে শোভা কবি ও ভাবুক জনের মনের খোরাক জোড়াত। বর্ষাস্নত কেয়া ও কেতকী যোগ দিত এই অপরূপ রুপের মেলায়। বুনো হাঁসের চঞ্চল চাহনি,কখনো কখনো কারণে অকারণে শৈল্পিক ছন্দে উড়াল দেয়ার মনকাড়া দৃশ্যে ভরপুর থাকতো সমগ্র এলাকাটি । রাতের কথা তো ভাবাই  যেত না, দিনের বেলাতেও এখানে আসা,কারো সাধ থাকলেও সাধ্যি হতো না।

          দীঘির পাশ ঘেঁসে ছিল একটি প্রশসত্ম খাল। বর্ষার অবিশ্রামত্ম বারিধারায় কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকতো এই খালটি। এলাকার বাণিজ্য কেন্দ্র গাংনীর ব্যবসায়ীরা পালতোলা নৌকায় মালামাল পরিবহণের কাজ করতো এখানে।

          বিদ্যালয়টি স্বল্প সময়ের মধ্যে মেহেরপুর মহকুমার (তৎকালীন) অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হয়। পাঠক্রমিক ও সহ-পাঠক্রমিক শিক্ষাকেন্দ্রে পরিনত হয়। পাঠক্রমি ও সহ-পাঠক্রমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সমানতালে চলতে থাকে। দূরবর্তী  এলাকার মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তি হওয়া শুরু করে। ফলে,আবাসিক সংকট দেখা দেয়। এ সংকট বেশী দিন থাকে নাই। এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের ও অন্যান্য সকলের সহযোগিতায় নির্মিত হয় দক্ষিন  দুয়ারী ৪ কামরা বিশিষ্ট ইউ প্যাটার্নের নহতন দালান। পাকিস্থান গণপরিষদের সদস্য বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মরহুম আব্দুল হান্নান সাহেব এর ভিত্তি প্রসত্মার স্থাপন করেন।

          গাংনী থানার বেতবাড়ীয়া নিবাসী দক্ষ রাজমিস্ত্রী মোহাঃ আত্তাহিম নির্মান কাজ সামাধা করেন। তিনি এই মহতী কজে তাঁর পারিশ্রমিকের কিছু অংশও স্বেচ্ছায় দান করেন। ঐ সময়ে তিনি গাংনী বাজারের শ্রী সতীশ চন্দ্র পালের চারচালা খড়ের ঘরে, দলবল সহ খাওয়া দাওয়া ও রাত্রি যাপন করতেন। একবার তিনি নাকি অমাবস্যায় অন্ধকারাচ্ছন্ন রাত্রিতে প্রকৃতির ডাকে সাড় দিতে গিয়ে অকস্মাৎ চেতনা হারিয়ে ফেলেন। মালসাদহ নিবাসী মুন্সী সোলায়মান এর দেওয়া তাবিজ ও ঝাঁড় ফুঁতে তিনি পুনরায় চেতনা ফিরে পান এবং সম্পূর্ন সুস্থ হয়ে উঠেন।দালান নির্মাণের যাবতীয় কার্য্যবলী সার্বক্ষণিক ভাবে সরেজমিনে তদারকী করেন বিদ্যালয়ের সর্বকালের সর্বশেষ্ট শিক্ষক শহীদ হাফিজুদ্দিন আহমেদ। তিনি ইট পোড়ানোর জন্য নিজ বাগানের বাবলা ও আমের গাছ এবং কড়ি বরগার জন্য পুকুর পাড়ের কাঁঠাল গাছ দান করেন। তাঁর জীবনের স্বপ্ন ও সাধনা এবং সর্বনা কালের স্রোত তিনি অন্য জনের মত ভেসে যাননি।বিদ্যালয়ের প্রতি পরতে পরতে তাঁর চিরঞ্জীর স্মৃতি যুগ হয়ে আছে এবং থাকবে।

          ১৯৫৩ সালে বিদ্যালয়টি পুর্ব পাকিস্থান সেকেন্ডারী এডুকেশন বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়ে পূর্ণাঙ্গ হাইস্কুলে রূপামত্মরিত হয়। স্বীকৃতির জন্য পারিদর্শন করেন খুলনা বিভাগের রেঞ্জ ইন্সপেক্টর জনাব মোহাঃ আব্দুল রহিম বিশ্বাস। ঐ দিন এলাকার সর্বসত্মরের জনগণের মাঝে এক অনাবিল আনন্দের বন্য বয়ে যায় এবং এক বর্ণাঢ্য আনন্দোৎসব ও ভোজ সভার আয়োজন করা হয়। চৌগাছা নিবাসী মোহাঃ ফাকেরালী বিশ্বাসের বড় পুকুরের ১২ সের ওজনের কতলা মাছের মুড়ঘন্ট, গাংনী যোগী বিশ্বাসের বাড়ীর শুকু দই, গাংনী বাজারের রামপদ বিশ্বাসের দোকানের রসকদস্ব এবং আরও হরেক কিসিমের মুখোরোচক ব্যঞ্জনাদি ছিল সেদিনের ডাইনিং টেবিলের প্রধান প্রধান আর্কষন। মাংসবিহীন এই ভোজসভার আয়োজন করেন বিদ্যালয়ের অংক শিক্ষক শ্রী কাশীনাথ বসু।বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক শ্রী পরিমল কুমার হতে আতশবাজী ক্রয় করেন এবং এর যথাযথ ব্যবহার করে আনন্দোৎসবকে আরও গতিময় ও আর্কষনীয় করে তোলেন। ঐ দিন বাবু মনোরঞ্জন বিশ্বাসের মেহমান খানা হতে দু’খানা শিশু কাঠের চেয়ার এবং একখানা টেবিল আনা হয়, যা তিনি আর ফেরত নেন নি। টেবিল খানির অসিত্মত্বের বিলুপ্তি ঘটলেও চেয়ার দু’খানা দীর্ঘ সাড়ে তিন যুগের বেশী সময় ধরে অদ্যাবধি দু-হাত বাড়ায়ে অকাতরে গুরু সেবা করে যাচ্ছে।

          ১৯৫৩ সালের পূর্বে বোর্ড কর্তৃক না পাওয়ার কারণে ১০ম শ্রেণীর নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তির্ন ছাত্ররা কাথুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। ১৯৫৩ সালে স্বীকৃতি প্রাপ্তির পর ঐ বছরেই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছাত্ররা প্রথম  বারের মত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল চুয়াডাংগা ভি জে হাইস্কুল । প্রথম পরীক্ষার্থীদের নামের তালিকা নিম্ন উল্লেখ করা হলোঃ-

          ১। মোহাঃ- এমরান হোসেনুধর্মচাকী,২। মোহাঃ হিসাব উদ্দিনুগাংনী ,৩। মোহাঃ খোশেদ আলি-গাংনী,৪। মোহাঃ জামালুদ্দিন-মালসাদহ,৫। শ্রী তপন কুমার দেব-হাড়িয়াদহ,৬। শ্রী নকুলনন্দ্র দেব-হড়িয়াদহ,৭। খাজা আহমেদ-মাইলমারী।

          জনাব মোহাঃ- এমরান হোসেন দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেন। ঐ সময়েই নাকি জনাব মোহাঃ এমরান হোসেনের পিতা সিংহ-পুরুষ মোঃ এলাহী বিশ্বাস খালি হাতে একটি মাঝ বয়েন চিতা বাঘ পকড়াও করেন এবং এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেন। বাপ-বেটার এধরণের চাঞ্চল্যকর দ্বিমুখী বিজয় পরখ করতে হাজার মানুষের ঢল নেমেছিল সে দিন। ধর্মচাকী গ্রামের মোঃ হিসাবুদ্দিন ৩য় বিভাগে পাশ করেন। বর্তমানে তিনি রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। মোহাঃ খোরশেদ আলম ৩য় বিভাগে পাশ করেন। তিনি বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করছেন। বাদবাকী সকলেই অকৃতকার্য হন।

          ১৯৫৩ সাল পর্যমত্ম বিদ্যালয়টি হাইস্কুল হিসাবে চালু থাকে। অতঃপর ১৯৫৮ সালের গুরু থেকে বিদ্যালয়ের জীবনের প্রথম বারের মত দূর্যোগের ঘনঘটা নেমে আসে। শিক্ষক,ছাত্র এবং অর্থের অভাবে স্বাল্প সময়ের মধ্যে জুনিয়র হাইস্কুলে রূপামত্মরিত হয় এক সময়ের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টি। সুর্দীঘ বৎসর এরূপ দৈন্য দশা থাকার পর স্খানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ধীরে ধীরে অর্থ,ছাত্র, শিক্ষক ও আবাসিক সমস্যার সমাধান হয়ে যায় এবং ১৯৬১ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বোর্ড কর্তৃক পুনঃরায় স্বীকৃতি প্রাপ্ত হয়ে অদ্যাবধি অত্র এলাকায়অবহেলিত মানুষের মাঝে জ্ঞানের মশাল প্রজ্জলিত করে রেখেছে।

অর্ধ শতাব্দীর বহু স্মৃতি বিজড়িত প্রতিষ্ঠানটি ভাংগা গড়া আর উত্থান পতনের দীর্ঘ বন্ধুর পথ পেরিয়ে ,অত্র এলকার শিক্ষাংগনের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জল অধ্যায়ের সংযোজন ঘটিয়েছে।১৯৬২ সালে সরকারি অনুদানেপশ্চিমদুয়ারি ৪ কামরা বিশিষ্ট দালান, ১৯৬৬ সালে বিজ্ঞান ভবন, ১৯৭৭-৭৮ সালে দক্ষিণ দুয়ারী দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়ে বিদ্যালয়টি পর্যায়ক্রমে দ্বিমুখী,বহুমুখী ও পাইলট হাইস্কুলে রূপামত্মরিত হয়।১৯৮২ সালে কমিউনিটি প্রকল্পের অমত্মর্ভুক্ত এবং ১৯৯৪ -৯৫ সালে ফ্যাসালিটিস ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক দ্বিতল ভবন সম্প্রসারিত হয় এবদক্ষিণ  দুয়ারী আর একটি তিন কামরা বিশিষ্ট চৌকশ দালান নির্মিত হয়।

এভাবে ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সেই শিশু ইউপি স্কুলটি সুদীর্ঘ ৭১ বৎসরের বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে পরিবর্তিত পরিবর্ধিত কালবরে আত্নপ্রকাশ করেছে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে।

বর্তমানে এই মানুষগড়ার কারখানায় ২২ জন উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষক, অন্যান্য কর্মচারী স্থানীয় জনসাধারন ও প্রশাসনের অক্লামত্ম পরিশ্রমে গড়ে উঠা মনোরম পরিবেশে সাড়ে সাট শত ছাত্র/ছাত্রী পাঠ গ্রহণ করে যাচ্ছে। দিনে দিনে গড়ে উঠেছে উন্নততর শিক্ষার পরিবেশ যার ফলশ্রুতিতে প্রায় প্রতি বছর এস,এস,সি পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় স্থান সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র/ছাত্রী তারকা প্রাপ্ত হয়ে উতীর্ন হয়ে আসছে। ছাত্র/ছাত্রীরা মেহেরপুর জেলা ভিত্তিক মেধা তালিকায় বিশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করে মরহুম সাবদার আলি স্মৃতি সংসদ,সরকারী কর্মচারী কল্যাণ সমিতি ও জিয়া স্মৃতি পরিষদ হতে স্বর্ণ ,রোপ্য, ব্রোজ্ঞ পদকসহ মর্যাদাপূর্ণ সনাদপত্র পেয়ে আসছে দীর্ঘ দিন ধরে। জুনিয়ার বৃত্তি পরীক্ষার ফলা লেও বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার শীর্ষস্থানে অবস্থাকরে আসছে দীর্ঘ এক যুগের বেমি সময় ধরে।এছাড়া থানা জেলা, বিভাগ ও জাতীয় রচনা, কেরাত, আবৃত্তি, সংগীত, এবং বিতর্ক অনুষ্ঠানে অসামান্য সাফল্য প্রদর্শন করে আসছে ছাত্র/ছাত্রীরা।

শিক্ষক মন্ডলীর ঐকামিত্মক প্রচেষ্টায় উন্নততর খেলার পরিবেশ গড়ে উঠেছে। থানা, জেলা, ও বিভাগপর্যায়ে ফুটবল ও এ্যাথলেসিকেস-এ অংশগ্রহন ও পৃুরষ্কার প্রাপ্তি এর উজ্জল দষ্টামত্ম।এর ফলশ্রতিতে ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি খুলনা বিভাগের শেষ্ঠ স্কুল হিসাবে বিবেচিত হয় এবং মাননীয় প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আব্দুল রাজ্জাক সাহেব শেষ্ঠ বিভাগীয় শিক্ষক হিসাবে পুরষ্কার লাভ করেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ নূরূল ইষলাম সাহেব, সহকারী শিক্ষক জনাব মোঃ আব্দুল কাদের ও জনাব মোঃ আব্দূল গণি থানা পর্যায়ে এবং সহকারী শিক্ষক জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

পাঠ্যক্রমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ম শৃখংলা বোধ শেখানো, স্বতন্ত্র বোধ জাগ্রত করা , ধর্মীয় অনুভূতির বিকাশ, বাসত্মবমুখী, শিক্ষাদান, সৎকর্মের স্পৃহা গড়ে তোলা ও জ্ঞানের পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রয়েছে নিয়মতান্ত্রিক সামবেশের ব্যবস্থা, বাধ্যতামূলক ইউনিফরম ও ব্যাজ, যোহরের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা, বিজ্ঞানাগার, স্কাউট, পাঠগার, ও গরিব, ছাত্র/ছাত্রীদের জন্যদরিদ্র তহবিল। দুরাঞ্চলের ছাত্র ছাত্রীদের আবসিক সুবিধার জন্য রয়েছে ছাত্রাবাস। ছাত্র শিক্ষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে আম্রকানন, নারিকেল বাগিচা, শতাধিক শিশু গাছ এবং রং-বেরং এর পজাপতির আনাগোনায় সমৃদ্ধ ফুলবাগানে অসংখ্য ফুলের সমারোহ। বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের লেখাপড়া যাতে কোন অসুবিধা না হয় সে জন্য স্কুল চত্ত্বরে সকল প্রকার বাজনৈতিক সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং স্কুল সীমানার বেশ কিছু দুরে বক্তৃতা মঞ্চ তৈরী করা হয়েছে। যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী শাহ্ আজির রহমান ‘‘গংনী হাইস্কুল সরকারীকরণ করা হলো’’ বলে ঘোসনা দিয়েছিলেন। 

          ১৯৯২ সালের ২৩ শে জুন দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ঐ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশাল জনসভায় অনুরূপ ঘোষনা দিয়ে গেছেন। মাননীয়া প্রাধান মন্ত্রীর ঘোষনার পর পরই তাঁর কার্য্যালয় হতে সরকারীকরণ সংক্রামত্ম যে প্রতিবেদনটি বিদ্যালয়ে পৌঁছেছে তাতে প্রধান মন্ত্রীর সচিব ডঃ কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী,শিক্ষমন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ শফিউল আলমকে জরুরী ভিত্তিতে লিখছেন  (০৯.০৭.৯২১ তাং)

          ‘‘মাননীয় প্রধান মন্ত্রী গত ২৩/৬/৯২ ইং তারিখে মেহেরপুর জেলা সফরকালে নিম্ন উল্লেখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ সরকারীকরণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

          ১। মেহেরপুর মহিলা কলেজ, মেহেরপুর।

          ২। গাংনী পাইলট বালক বিদ্যালয়, গাংনী, মেহেরপুর।

          এমতাবস্থায় এই বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা যাইতেছে।’’

          বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য প্রধান মন্ত্রীদ্বয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি আজও বাসত্মবে রূপায়িত হয়নি। তরে গাংনী থানার দু’লক্ষ জনতার সাথে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলি,কাযনির্বাহী কমিটি ও সাড়ে আট শত ছাত্র/ছাত্রী বুক ভরা আশা নিয়ে আজও অবাক বিস্ময়ে চেয়ে আছে, গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের দেশীয় কার্য্যক্রমের দেয়া প্রতিশ্রুতি হয়তো বা অচিরেই বাসত্মবে রূপায়িত হবে। বিদ্যালয় সংলগ্ন হাটটি ছিল আয়ের অন্যতম উৎস।বিভিন্ন শ্রেণীর ছাত্ররা খাজনা ও তোলা তুলে জমা দিত স্কুল ফান্ডে।হাটটি সরকারি মালিকানায় চলে গেলেও গাংনী আলমডাংগা জেলা র্বোডের রাসত্মা ঘেষে গড়ে উঠেছে গাংনী হাইস্কুল মার্কেট।কার্যসির্বাহী কমিটি ও শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতায় দিনে দিনে মার্কেটের কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে।এককালের জংলাকীর্ণ এলাকাটি আজকের দিনে বিকিকিনি আর দরকষাকষির গুঞ্জরণে মুখরেত হয়ে থাকে নিশিদিন। কখনো বা এমনি দরকষাকষির কথামালা কল্পনার তাত্ত্বিক ভুবনে অনুপ্রবেশ করে।বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে এক শতাব্দীর ইতিহাস রচনা করা সত্যিই দুরুহ ব্যাপার। যুগ পরস্পরায় যাঁদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ধন্য হয়েছে, তাঁদের প্রায় সকলেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।যাঁরা আধমরা হয়ে বেচে আছেন তাঁরাও বহু তথ্য স্মৃতি বিস্মৃতিরৃঅতলে হারিয়ে ফেলেছেন। পাক-ভারত বিভক্তি, পঞ্চাশের দশকের হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের সংকটময় মুহূর্তে বিদ্যালয়ের ভাগ্যাকাশে দুর্যোগের ঘনঘট নেমে আসে।

স্কুলের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে করুণ ও মর্মামিত্মক অধ্যায় সংযোজিত হয়। বিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা বিংদমত্মীর নায়ক জনাব মোঃ হাফিজউদ্দিন আহমেদ ও প্রধান শিক্ষক জনাব মোঃ আবুল হাসেম হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর দের হাতে নির্মমভাবে শঅহাদত বরণ করে। এ ছাড়াও অফিস ভাংচুর হয়। ঘড়ি, টাইপরাইটার, সাইক্লোষ্টাইল মেশিন, মাইক্রোসকোপ সহ বহু মূল্যবান বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, নথিপত্র, ফইল, ও দলিলাদি খোয়া যায। তাই তথ্যের অভাবে ইতিহাস রচনার কাজটি আরও দুরুহ হয়ে পড়ে।খুজে পাওয়া যায় মাত্র কিছু রেকর্ড পত্র। আর অসংখ্য স্থানীয় ও অস্থানীয় বর্ষীয়ান শুধিজনের মৌখিক তথ্যের সাথে অত্র বিদ্যালয়ে আমার ৪০ বছরের ছাত্র ও শিক্ষকতার জীবনের অভিজ্ঞতা,উপলব্ধী ও জানা তথ্যের সম্মিলন ঘটিয়ে অত্র ইতিহস রচনার প্রয়াস পেয়েছি মাত্র।

অতীতকে জানাই ইতিহাস। বর্তমানকে অতীতের কাঠগড়ায় দাঁড়করিয়ে বস্ত্তনিষ্ঠ, তথ্যনির্ভর ও বিশ্লেষণ ধর্মী ইতিহাস রচনা করাইঐতিহাসিকের কাজ।ইতিহাসের উপজীব্য বিষয় সমূহ যতক্ষণ না পাঠকের অমত্মর ছুঁয়ে যায় ততক্ষন ইতহাস রচনার সার্থকতা মেলে না। এমন একটি কঠিন দায়িত্ব  সঠিকভাবে পালন করার সাধ থাকলেও সাধ্যি হয় নি বলতে লজ্জা নেই। তা্ই অনিচ্ছাকৃত সকল প্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার জন্য পাঠকবৃন্দের সমীপে সনির্বদ্ধ অনুরোধ রইলো। খোদা হাফেজ।

ছবি নাম মোবাইল ইমেইল
মোঃ আফজাল হোসেন 01714557399 gangnihighschool@gmail.com

ছবি নাম মোবাইল ইমেইল
মোঃ আশরাফুল আলম খান 0 gangnihighschool@gmail.com
মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন ০১৮১৮২৪৪১৬২ tuhin.poly@yahoo.com
মোঃ আশরাফুল ইসলাম 0 gangnihighschool@gmail.com
মোঃ মহির উদ্দীন 0 gangnihighschool@gmail.com
মোঃ ওহিদুজ্জামান 0 gangnihighschool@gmail.com
মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান 0 gangnihighschool@gmail.com
মোঃ আব্দুর রহিম 0 gangnihighschool@gmail.com
মোঃ আব্দুল মালেক 0 gangnihighschool@gmail.com
মোঃ বাবুল আক্তার 0 gangnihighschool@gmail.com
মোছাঃ শ্যামলী আক্তার 0 gangnihighschool@gmail.com

গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ

গাংনী, মেহেরপুর।

২০১৩ সালে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির তথ্যাদি


শ্রেণী

ছাত্র

ছাত্রী

মোট

৬ষ্ঠ

                   ১১৮

১২৬

২২৩

৭ম

১০৮

১০২

২৩০

৮ম

৯৭

৯৫

১৭৯

৯ম

১৪০

১১০

২৬১

১০ম

১১৪

৯২

২২০

      ভোকেশনাল -৩৬১                                             বিএম-২৫৬ কলেজ-৫০

৯৮%

বিদ্যালয়েরনির্বাহীকমিটি



 

ক্রমিকনং

সদস্যেরনাম

পদবী

মোবাইলনম্বর

ছবি

১।

মোঃ মোশারফ হোসেন

সভাপতি

01711841654

   

২।

মোঃ আফজাল হোসেন

সদস্যসচিব

01714557399

  

৩।

মোঃ শফি কামাল পলাশ

সদস্য

01710451673

 

৪।

মোঃআব্দুল বারী

অভিভাবকসদস্য

 

 

৫।

সভাপতি নিজেই

  দাতাসদস্য

 

 

গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ

গাংনী, মেহেরপুর।

ফলাফলঃ জে,এস,সি

 

সাল

পরীক্ষাথী

A+

A

A-

B

C

D

পাশ

২০১০

১৮৫

০১

৩২

৬৮

৪৫

০৯

০০

১৫৫

২০১১

১৭১

০৯

৩৭

৩৮

৩৩

৩৩

০২

১৫৭

২০১২

১৮২

১৩

 

 

 

 

 

১৭৩

­­

ফলাফলঃ এস,এস,সি

 

সাল

বিভাগ

পরীক্ষাথী

A+

A

A-

B

C

D

পাশ

 

২০১০

 

মানবিক

৩৫

-

১৩

০৫

০৩

০২

-

২৩

বিঃ

৯৫

৩৫

২৩

২০

০৮

০৩

-

৮৯

ব্য:শিক্ষা

৮৭

০২

৩৭

০৫

২০

০৭

-

৭১

 

২০১১

 

মানবিক

৪৬

০১

১৫

১০

০৩

০৩

-

৩২

বিঃ

৮৬

২১

২৫

২০

১০

০৩

-

৮৪

ব্য:শিক্ষা

৭৬

০১

২৭

২৮

১০

০২

০১

৬৯

 

২০১২

মানবিক

৪৮

-

০১

০৮

১০

১৭

০৪

৪০

বিঃ

১০৩

১১

৫৫

২১

০৮

-

-

৯৫

ব্য:শিক্ষা

৭৩

-

০৫

২১

১৭

২৩

০১

৬৭

 

২০১৩


মানবিক

২৯

-

-

২৯

বিঃ

১০৭

৫১

৪২

 

১০৪

ব্য:শিক্ষা

৯০

৩১

২৪

১৭

৮৮

 

 

 

গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ

 

গাংনী, মেহেরপুর।

 

ফলাফলঃ জুনিয়র বৃত্তি

 

 

সাল

টেলেণ্টপুল

সাধারণ

মোট

সবমোট

 

ছাত্র

ছাত্রী

ছাত্র

ছাত্রী

ছাত্র

ছাত্রী

১৫

২০১০

১০

০৬

০২

০১

১২

০৭

১৯

২০১১

১০

০৮

১০

০৫

২০

১৩

৩৩

২০১২

 

 

 

 

 

 

 

 

১। মডেল স্কুলে রুপান্তর-২০০৭।
 

২। ডাবল শিফট স্কুলে রুপান্তর-২০১২।

 

৩। ফলাফলে জেলার শ্রেষ্ঠ স্কুল-২০১৩।
 

৪। জেলার সর্বোচ্চ এ+ ও জুনিয়র বৃত্তি-২০১৩।
 

৫। জেলার সর্বোচ্চ সংখ্যক কম্পিউটার নিয়ে অত্যাধনিক কম্পিউটার ল্যাব।
 

৬। বিতর্ক প্রতিযোগিতায় জাতীয় পুরষ্কার লাভ।

 

৭। শিক্ষক প্রশিক্ষন কেন্দ্র ভেন্যু।
 

১। মডেল স্কুল হিসাবে   ছাত্র-ছাত্রীর ১০০% উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ।
২। ১০০% ফলাফল নিষ্চিতকরণ।
৩। শ্রেণীকক্ষের সংখ্যা  ও মান বৃদ্ধিকরণ।
৪। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্বাস্খ্য সেবা প্রদান।

৫। ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ক্যান্টিন তৈরী।

৬। সহপাঠ্যক্রমিক সকল শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ধরে রাখা।
৭। ছাত্র-ছাত্রীর আবাসিক হলের উন্নয়ন।

৮। খেলাধুলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ধরে রাখা। 

৯। বিজ্ঞান মেলা, শিক্ষা মেলা ও প্রযুক্তি মেলার ব্যবস্থা করা এবং জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ।

১০। ১০০% শিক্ষককের প্রযুক্তি শিক্ষা নিশ্চিতকরণ।

 

গাংনী শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত। মেহেরপুর টু কুষ্টিয়া রোর্ডের পূর্বে এবং

গাংনী টু হাটবোয়ালিয়া রোড সংলগ্ন।

যোগাযোগঃ

প্রধান শিক্ষক

গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ

গাংনী,মেহেরপুর।

ফোনঃ 07922-75158

মোবাইলঃ 01714557399

ফোকাল ম্যানঃ 01818-244162

E-MAIL-    gangnihighschool@gmail.com

           gangnihschool@yahoo.com